মোরশেদের আকুতি ছিল ‘ক্লান্ত লাগছে, ইফতার শেষ করলেই আমায় মেরো’

‘এখন বেশি ক্লান্ত লাগছে, একটু পর ইফতার করব। ইফতার শেষ করলেই তোমরা আমায় মেরো’- এভাবেই হত্যাকারীদের কাছে আরো কিছুটা সময় বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন মোরশেদ আলী। কিন্তু সেই আকুতিতে মন গলেনি তাদের। প্রকাশ্যে দিবালোকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটানোর পর কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে মোরশেদ আলীকে হত্যা করেন তারা।

কক্সবাজারের আলোচিত এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার ভোরে টেকনাফ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর একইদিন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ।

গ্রেফতাররা হলেন- মোহাম্মদুল হক ওরফে মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ ও নুরুল হক। তারা সবাই কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে কৃষকদের কাছে সেই পানি বিক্রি করছে গ্রেফতার মাহমুদুল হকের পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কৃষকদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে বাড়ি আসেন মোরশেদ। তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করতেন। এলাকায় প্রতিবাদী যুবক হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন- মোরশেদ সেচ প্রকল্পটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে মাহমুদুলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

আসামিদের বরাত দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে একটি সিমেন্টের দোকানে বসে মোরশেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাহমুদুল। এরপর বিকেলে মোরশেদ ইফতারি কিনতে বাসা থেকে বেরিয়ে বাজারে গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সঙ্গীদের নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করেন মাহমুদুল। একপর্যায়ে মোরশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। ইফতারের পর মারতে তাদের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন মোরশেদ। কিন্তু সেই কথা রাখেননি তারা।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেননি আসামিরা। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মাহফুজুর রহমান বলেন, টেকনাফ থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আসামিরা- এমন সংবাদে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

৭ এপ্রিল কক্সবাজারের সদর উপজেলার পিএমখালীতে এ ঘটনা ঘটে। মোরশেদ আলী একই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে রাত আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়।

About bdnews

Check Also

শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া, স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.